Sunday, January 26, 2020

// // Leave a Comment

বিস্ময়কর কারামত

 "হাল্লাজ" শব্দের অর্থ হইল ধুনকর। কথিত আছে, হযরত মানসূর (রহঃ) একবার এক ব্যক্তির কার্পাস তুলার স্তুপের নিকট দিয়া যাইতেছিলেন।
Read More

Thursday, January 9, 2020

// // Leave a Comment

তুলা, গুড় এবং অন্যান্য

 এক ব্যক্তির এক ছেলে ছিল। ছেলেটি ছিল বোকা। সেজন্যে পিতার ভাবনার অন্ত ছিল না। 
মৃত্যুর সময় পিতা ছেলেকে ডেকে বললো, “আমার মৃত্যুর পর যারা শোক প্রকাশের জন্যে আসবে তাদের সঙ্গে নরম এবং মিষ্টি কথা বলিও। 
Read More

Friday, August 2, 2019

// // 1 comment

সত্যপথ প্রাপ্তি

 হযরত ইবরাহীম আদ্‌হাম (রহঃ) ছিলেন বলখের প্রতাপশালী বাদশাহ্‌। এক বিশাল রাজ্য ছিল তাঁহার শাসনাধীন। তিনি যখন ভ্রমণে বাহির হইতেন, তখন ৪০ জন করিয়া স্বর্ণের ঢাল ও রৌপ্যের গুর্জধারী সৈন্য তাঁহার অগ্রে ও পশ্চাতে তাঁহার দেহরক্ষীরূপে মোতায়েন থাকিত। 
একদা শাহী মহলে গভীর রাত্রে
Read More
// // Leave a Comment

অত্যাচারী এক বাদশাহের গল্প

 একাদশ শতাব্দীর প্রথমে অত্যাচারী ইসলাম বিরোধী সম্রাট আকবরের যুগে হযরত শায়েখ আহ্‌মাদ মোজাদ্দেদে আলফে সানী (রহঃ) ছিলেন। 
সম্রাট আকবর ইসলাম ধর্মের ভয়াবহ শত্রু হিসাবে দণ্ডায়মান হইয়াছিল।
Read More
// // 1 comment

গান-বাদ্যের কুফল



 পবিত্র কোরআন শরীফে সূরা লোকমানে আছে- "লোকদিগের মধ্যে কোন লোক এরূপ আছে যে, লাহ্‌ওয়াল হাদিছ গ্রহণ করে, যাতে নিখোঁজভাবে লোকদিগকে খোদাতা'আলার রাস্তা হতে পথভ্রষ্ট করতে পারে এবং ইহাকে বিদ্রুপ মনে করে; তাদের জন্য জঘন্যতম শাস্তি আছে। "
যে কাজ করলে শাস্তি ভোগ করতে হয়, তাই হারাম (নিষিদ্ধ)।
লাহ্‌ওয়াল হাদীছের মর্মে তাফসীরে ইবনে জারীর তাবারীর ২য় খন্ড ৩১ পৃষ্ঠায় আছে- সায়ীদ বিন জোবায়ের, আবুছ্‌ ছাহবা বাকরী হতে রেওয়ায়েত করেছেন, তিনি হযরত আবদুল্লাহ্‌ বিন মাছউদ (রাঃ) কে এই আয়াত সম্বন্ধে জিজ্ঞাসিত হতে শুনেছিলেন। ইহাতে তিনি বলেছিলেন, "আল্লাহ্‌ ব্যতীত কোন মা'বুদ নেই, উনার কসম করে বলছি, লাহ্‌ওয়াল হাদীছ রাগ-রাগিনীসহ গানকে বলা হয়। তিনি পুনঃ পুনঃ এই কথাটি বলেছিলেন।
তাফসীরে রুহুল মা'আনী ৯ খন্ডে বিভক্ত। এর ৬ষ্ঠ খন্ডের ৪৬৩ পৃষ্ঠায় লিখা আছে, লাহ্‌ওয়াল হাদীছের অর্থ- গান।
সূরা নজমের শেষ আয়াত "ওয়া আনতুম সা-মিদুন। "
তাফসীরে বায়জাবী শরীফে আছে- "সা-মিদুন" শব্দের অর্থ সঙ্গীতকারীগণ।
সূরা বনী ইসরাঈলে আছে, আল্লাহ্‌ তা'আলা শয়তানকে লক্ষ্য করে বলেছিলেন, তুমি আদম সন্তানগণের মধ্যে যাকে পারো নিজের শব্দ দ্বারা উত্তেজিত করো।
শয়তানের শব্দই গান-বাদ্য। কাজেই উহা হারাম।
তাফসীরে দুররুল মানছুরের ৫ম খন্ড ১৫৯, ১৬০ পৃষ্ঠায় আছে, লাহ্‌ওয়াল হাদীছের অর্থ- গান-বাদ্য।
তাহ্‌তাবী কিতাবের ৪র্থ খন্ড ১৭৩ পৃষ্ঠা কাহাস্তানিতে লিখা আছে,
ইবলীছ সর্বপ্রথম গানের সৃষ্টি করেছে এবং সামেরীর শাগরিদগণ সর্বপ্রথম লাফালাফি, নাচানাচি, জমিতে লুন্ঠন-প্রথা আরম্ভ করেছিল।
যখন হযরত মুসা (আঃ) তূর পাহাড়ে ছিলেন, তখন হারুন (আঃ) সামেরীকে নিষেধ করা সত্ত্বেও সামেরী- নিজের শাগরিদদিগের জন্য রক্ত-মাংসময় গরুর বাচ্চার মূর্তি সৃষ্টি করেছিল এবং সেই সময় তারা লাফালাফি করে জমিতে উলট-পালট হয়ে পড়ে গরুর পূজা করেছিল। ইহা কাফের ও গো-পূজকদের ধর্ম। বিধর্মীগণ মুসলমানদিগকে পবিত্র কোরআন শরীফ পাঠ হতে বিরত রাখার উদ্দেশ্যে বংশী-বাদ্য তৈরি করেছিল। জালাল উদ্দিন গিলানী (রহঃ) বলেছেন, এই সমস্ত হারাম। হালাল জানলে কাফের হবে।
তাফসীরে রুহুল মা’আনীর ৬ষ্ঠ খন্ড, ৪৬৩, ৪৬৪ পৃষ্ঠায় আছে, হযরত হাসান বসরী (রহঃ) হতে বর্ণিত, গল্প-গুজব, ঠাট্টা-বিদ্রূপজনক কথা ও গান উক্ত আয়াতে নিষিদ্ধ হয়েছে।
তাফসীরে রুহুল মা’আনী ৩য় খন্ড ৪৪, ৪৫ পৃষ্ঠায় আছে,
সেতারা,দোতারা, একতারা, বেহালা ইত্যাদি গানের বাদ্যযন্ত্রসমূহ যে হারাম, ইহাতে মতভেদ নাই।
...
ইমাম আহমদ (রহঃ) বর্ণনা করেছেন, প্রিয়নবী (সাঃ) বলেছেন, "নিশ্চয়ই খোদাতা'আলা আমাকে পৃথিবীর রহমত ও পথ-প্রদর্শক করে পাঠিয়েছেন এবং বংশী, সারেঙ্গী ও সমস্ত বাদ্য-যন্ত্রসমূহ ধ্বংস করার আদেশ করেছেন। "
ইমাম তিবরানী ও ইবনে আবিদ্‌ দুন্‌ইয়া এই হাদিছটি বর্ণনা করেছেন যে, ইবলিছ জমিতে পড়ে বলেছিল, হে খোদা! তুমি আমাকে জমিনে নিক্ষেপ করেছো এবং স্বীয় দরবার হতে তাড়িয়ে দিয়েছো- এখন আমাকে একটি ঘর তৈরি করে দাও। খোদাতা'আলা বললেন, উহা স্নানাগার।
একটি সভা ঠিক করে দাও; খোদাতা'আলা বললেন, উহা বাজারসকল ও রাস্তার সম্মিলন স্থল।
আমার জন্য খাদ্য নির্দেশ করে দাও; খোদাতা'আলা বললেন, যে বস্তুর উপর খোদার নাম পাঠ করা না হয়, সেটাই তোমার খাদ্য।
আমার জন্য পানীয় ঠিক করে দাও; খোদাতা'আলা বললেন, প্রত্যেক নিশাযুক্ত বস্তুই তোমার জন্য পানীয়, যথা- গাঁজা, ভাং, চরস, তাড়ি ও মদ ইত্যাদি।
...
হযরত (সাঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি স্বেচ্ছায় গানের সুরে কর্ণদ্বয় পূর্ণ করে রাখে, হাশরের দিন তাকে রুহানীদিগের শব্দ শুনতে অনুমতি দেওয়া হবে না। লোকে জিজ্ঞাসা করল, ইয়া রাসূলুল্লাহ্‌ (সাঃ), রুহানী কাকে বলে? হযরত (সাঃ) বললেন, বেহেশতবাসী ফেরেশতা ও হুরদিগের মধ্যে যারা কোরআন শরীফ পাঠ করবে, তাদেরকেই রুহানী বলা হয়।
...
বাহরুর রায়েক ৭ম খন্ড, ৮৮ পৃষ্ঠায় আছে,
যে গানে আমোদ-প্রমোদ আছে; অথবা, কুরিপুগুলিকে উত্তেজিত করে তোলে, তা বাদ্য- যন্ত্রবিহীন হলেও হারাম (নিষিদ্ধ)।
...
তফসীরে আহমদি ৬০০ পৃষ্ঠায় আছে,
যে ব্যক্তি গান করতে উচ্চশব্দ করে, খোদাতা'আলা তার উপর দুইটি শয়তান পাঠিয়ে দেন; সে যতক্ষণ গান করতে থাকে, শয়তান দুইটি তার দুই কাঁধে বসে ততক্ষণ পদাঘাত করতে থাকে।
...
ইমাম আবু জাফর তাবারী বলেছেন, কাবিল বংশের কুফল নামক এক ব্যক্তি নানারূপ খেলা-তামাশাজনক বস্তুসমূহ তৈরি করেছিল, সে সময় মোহলাইল বিন কিবান নামক ব্যক্তি বাদ্যযন্ত্রের মধ্যে বংশী, ঢোল এবং উদ্‌ তৈরি করেছিল। এতেই কাবিলের বংশধর খেলা-তামাশায় লিপ্ত হয়ে পড়ে। তারপর, শীশ (আঃ) এর বংশধরগণ (যাদের মধ্যে কিছু বদকার বা খারাপ ছিল) সংবাদ পেয়ে তাদের একদল উক্ত দলের সঙ্গে মিলিত হয় এবং জিনা ও মদ্যপান আরম্ভ করে।
হাদীছ শরীফে আছে, গান-বাদ্য জিনার মন্ত্র।
...
আবুল হারেছ আওলাছী (রহঃ) বলেছেন, আমি স্বপ্নযোগে দেখছিলাম, একটি ছাদের উপর ডানে ও বামে দুইদল সৈন্য নিয়ে শয়তান বসেছে। সে একদলকে বলল, তোমরা দাঁড়িয়ে গান করো। তখন তারা দাঁড়িয়ে গান করতে লাগলো। তারপর বলল, নাচ আরম্ভ করো, তখন নৃত্য করতে লাগলো। তখন শয়তান বলল, হে আবুল হারেছ! আমি গান-বাদ্য ও নাচ ব্যতীত তোমাদের নিকট উপস্থিত হতে পারি না।
...
কোরআন শরীফ সূরা ফোরকানে আছে- "তারা (পরহেজগার লোকেরা) বাতিলের অর্থাৎ, খেলা-তামাশা ও গানের সভায় উপস্থিত হন না। "
তাফসীরে কাশশাফের ২য় খন্ড ৩৩৪ পৃষ্ঠায় আছে, পরহেজগারেরা শিরক, মিথ্যালোচনা স্থলে, প্রতিমালয়ে, গান-বাদ্যস্থলে, খৃষ্টানদের পর্বে, স্ত্রীলোকদের উচ্চস্বরে ক্রন্দনস্থলে এবং মুত্তাকীদের না-পছন্দ কোন সভায়ই উপস্থিত হন না।
কোরআন শরীফ সূরা মো'মেনে আছে, "আমি তোমাদেরকে অনর্থক সৃষ্টি করেছি বলে কি তোমরা ধারণা করছো?"
উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় তাফসীরে বায়জাবী শরীফের ৪র্থ খন্ড ৭২ পৃষ্ঠায় আছে, - তোমাদিগকে নানারূপ খেলা-তামাশার জন্য সৃষ্টি করিনি।
...
হযরত সালমান (রাঃ) হইতে বর্ণিত পবিত্র হাদীছ শরীফ- "কেয়ামত নিকটবর্তী হওয়ার লক্ষণসমূহের মধ্যে দুইটি এই যে, লোকে কোরআন শরীফকে রাগ-রাগিনীর সাথে পাঠ করবে এবং গান-গায়কের দল বেড়ে যাবে।
- আনিছূত্তালেবীন। [৪র্থ খন্ড, ৯১-৯৬ পৃষ্ঠা। ] লেখকঃ মাওলানা হাফেজ মোহাম্মদ আবদুর রহমান হানাফী (রহঃ)।

মাটির মধ্যে পানি পতিত হলে যেমনিভাবে ঘাস জন্মায়, গান শুনলে অন্তরে তেমনি করে মোনাফেকি (কপটতা বা ভন্ডামী) সৃষ্টি হয়।
...
মহান আল্লাহ্‌ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা আমাদের সবাইকে গান-বাদ্যসহ সকল ফেতনা-ফাছাদ থেকে রক্ষা করুন। আমীন।।
***
Image by Erich Westendarp from Pixabay
Read More
// // Leave a Comment

বাদ্যযন্ত্র সমাচার

 এক রাত্রিতে হযরত বায়েযীদ (রহঃ) কবরস্থানের দিকে যাইতেছেন, এমন সময়ে বস্তাম শহরের কোন নেতৃস্থানীয় লোকের এক যুবক পুত্র বাদ্য-যন্ত্র বাজাইয়া তাহার সম্মুখ দিয়া যাইতেছিল।
Read More
// // Leave a Comment

প্রিয় নবীজী (সা.) দেখতে কেমন ছিলেন

মহানবী (সা:) দেখতে কেমন ছিলেন?

জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন,রাসূলুল্লাহ (সা:) বলেছেন, আমার কাছে নবীগণকে পেশ করা হয়। মূসা (আঃ) এর মধ্যে বিভিন্ন লোকের সাদৃশ্য বিদ্ধমান ছিল। তিনি যেন শানুয়াহ গোত্রের লোক। আমি ঈসা ইবনে মারইয়াম (আঃ) কে উরওয়া ইবনে মাসঊদের সাদৃশ্যপূর্ণ দেখতে পাই। তারপর আমি ইবরাহীম (আঃ) কে দেখতে পাই এবং তাকে পাই ’তোমাদের সঙ্গীর’ সাথে সর্বাধিক সাদৃশ্যপূর্ণ। তোমাদের সঙ্গী বলে তিনি নিজেকে বুঝিয়েছেন। আর আমি জিবরীল (আঃ) কে দিহইয়া (কালবী) এর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ দেখতে পাই। (সহীহ মুসলিম, হা/৪৪১; মুসনাদে আহমদ, হা/১৪৬২৯ সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৬২৩২ জামেউস সগীর, হা/৭৪৫১; মিশকাত, হা/৫৭১৪।)

জাবির ইবনি সামুরা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি একবার পূর্ণিমা রাতের স্নিগ্ধ আলোতে রাসূলুল্লাহ (সা:)-কে লাল চাদর ও লুঙ্গি পরিহিত অবস্থায় দেখলাম। তখন আমি একবার তার দিকে ও একবার চাঁদের দিকে তাকাতে থাকলাম। মনে হলো তিনি আমার কাছে পূর্ণিমার চাঁদের থেকে অধিকতর চমৎকার। (মুস্তাদরাকে হাকিম, হাদিস, ৭৩৮৩; মারেফাতুস সাহাবা, হাদিস, ১৪৩৫; মিশকাত, হাদিস, ৫৭৯৪)

হজরত আনাস ইবনি মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ((সা:)-এর গাত্রবর্ণ ছিল গৌর, মুখমণ্ডল ছিল অত্যন্ত সুশ্রী ও মাধূর্যমন্ডিত এবং দেহ মুবারক ছিল মাঝারি গড়নের। তার চুল একেবারে কোঁকড়ানো ছিল না, আবার একদম সোজাও ছিল না। ৪০ বছর বয়সে আল্লাহ তায়ালা তাকে নবুওয়াত দান করেন। এরপর মক্কায় ১০ বছর এবং মদিনায় ১০ বছর কাটান। আল্লাহ তায়ালা ৬০ বছর বয়সে তাকে ওফাত দান করেন। ওফাতকালে তার মাথা ও দাড়ির ২০টি চুলও সাদা ছিল না।(সহিহ বোখারী, ৫৯০০; সহিহ মুসলিম, ৬২৩৫; মুয়াত্তা মালেক, ১৬৩৯, ইবনি মাজাহ)

তিনি মাঝারি গড়নের হলেও যখন সবার সঙ্গে হাঁটতেন তখন তাঁকে সবার মধ্যে সবচেয়ে বেশি লম্বা দেখাত। এটি ছিল মূলত তাঁর মুজিজা। (ফাতহুল বারি : ৬/৫৭১)

আলী ইবনে আবু তালিব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (সা:) বেশি দীর্ঘ কিংবা বেশি খাটো ছিলেন না। তাঁর হস্তদ্বয় ও পদদ্বয়ের তালু এবং আঙ্গুলসমূহ ছিল মাংসল। তাঁর মাথা ছিল কিছুটা বড় এবং হাত-পায়ের জোড়াগুলো ছিল মোটা। বুক হতে নাভি পর্যন্ত পশমের একটি সরু রেখা প্রলম্বিত ছিল। যখন পথ চলতেন মনে হতো যেন কোন উঁচু স্থান হতে নিচে অবতরণ করছেন। বর্ণনাকারী বলেন, তাঁর পূর্বে কিংবা পরে আমি তাঁর মতো (অনুপম আকর্ষণীয়) আর কাউকে দেখিনি। (মুসনাদে আহমাদ, হা/৭৪৬; মুস্তাদরাকে হাকেম, হা/৪১৯৪; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৬৩১১।)

বারা’ (রাঃ) বর্ণনা করেছেন, ‘নাবী কারীম (সা:)-এর দৈহিক গঠন ছিল মধ্যম ধরণের। উভয় কাঁধের মধ্যে ছিল দূরত্ব এবং কেশরাশি ছিল দু’ কানের লতি পর্যন্ত বিস্তৃত। আমি নাবী কারীম (সা:)-কে সৌন্দর্যমন্ডিত পোশাকাদি পরিহিত অবস্থায় প্রত্যক্ষ করেছি। নাবী কারীম (সা:)-এর চাইতে অধিক সুন্দর কোন কিছু আমি কখনো প্রত্যক্ষ করি নি। (সহীহুল বুখারী ১ম খন্ড ৫০২ পৃঃ।)

আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম (রা.) বলেন, ‘রাসুল (স.) যখন মদিনায় এসে পৌঁছলেন, লোকজন তাঁকে দেখার জন্য দ্রুত তাঁর দিকে ছুটতে লাগল এবং বলাবলি করতে লাগলো- রাসুলুল্লাহ (স.) এসেছেন। অতএব আমিও তাঁকে দেখার জন্য লোকদের সাথে উপস্থিত হলাম। আমি রাসুলুল্লাহ (স.)-এর চেহারা মুবারকের দিকে তাকিয়েই বুঝতে পারলাম যে, এই চেহারা কোনো মিথ্যুকের চেহারা নয়। তখন তিনি সর্বপ্রথম যে কথা বললেন, তা হলো- হে লোকসকল! তোমরা সালামের প্রসার ঘটাও, খাদ্য দান করো এবং মানুষ ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় (তাহাজ্জুদ) নামাজ আদায় করো। তাহলে নিশ্চয়ই তোমরা অনায়াসে জান্নাতে প্রবেশ করবে।’ (সুনানে তিরমিজি: ২৪৮৫)

প্রথমাবস্থায় রাসূলুল্লাহ (সা:) আহলে কিতাবের সঙ্গে সাদৃশ্য বজায় রেখে চলা পছন্দ করতেন এবং এ কারণে চুলে চিরুনী ব্যবহার করতেন, কিন্তু তাঁর সিঁথি প্রকাশ পেত না। কিন্তু পরবর্তী সময়ে সিঁথি প্রকাশিত। (সহীহুল বুখারী ১ম খন্ড ৫০৩ পৃঃ।)

তাঁকে জিজ্ঞেস করা হল যে, নাবী কারীম (সা:)-এর মুখমণ্ডল কি তলোয়ারের মতো ছিল? উত্তরে বলা হল, ‘না, বরং পূর্ণ চন্দ্রের মতো ছিল।’ এক বর্ণনায় আছে যে, ‘নাবী কারীম (সা:)-এর মুখমণ্ডল ছিল গোলাকার। (সহীহুল মুসলিম দারেমী, মিশকাত শরীফ ২য় খন্ড ৫১৭ পৃঃ।)

রুবাইয়্যা বিনতে মুআওয়িজ (রা.)- বলেছেন, ‘যদি তোমরা নাবী কারীম (সা:)-কে দেখতে তাহলে মনে হতো যে, তোমরা উদিত সূর্য দেখছ। (তিরমিযী শামায়েলের মধ্যে পৃ: ২ দারমী মিশকাত ২য় খন্ড ৫১৭ পৃঃ।)

আবু হুরাইরাহ (রাঃ) বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ (সা:)-এর চেয়ে উজ্জ্বলতর কোন চেহারা আমি কক্ষনো দর্শন করিনি। তাঁর চেহারায় যেন সূর্য কিরণের ন্যায় ঝলমল করতো। আর রাসূলুল্লাহ (সা:)-এর চেয়ে দ্রুত চলন কারো দেখিনি, জমিন যেন তার কাছে সংকুচিত হয়ে যায়। আমরা খুব কষ্ট করে তার নাগাল পেতাম অথচ এটা তার কাছে কিছুই মনে হতো না।

কা‘ব বিন মালিক বর্ণনা করেন যে, ‘রাসূলুল্লাহ (সা:) যখন প্রফুল্ল থাকতেন তখন তাঁর মুখমণ্ডল এরূপ চমকিত হতো যে, মনে হতো যেন তা চন্দ্রের একটি অংশ। (সহীহুল বুখারী ১ম খন্ড ৫০২ পৃঃ।)

রাসূলুল্লাহ (সা:) যখন রাগান্বিত হতেন তখন তাঁর মুখমণ্ডল রক্তিম বর্ণ ধারণ করত। মনে হতো যেন গন্ডদ্বয়ের উপর ডালিমের রস সিঞ্চিত হয়েছে।(মিশকাত ১ম খন্ড ২২ পৃঃ, তিরমিযী কাদার অধ্যায় ২য় খন্ড ৩৫ পৃঃ।)

জাবির বিন সামুরাহ হতে বর্ণিত হয়েছে, নাবী কারীম (সা:) -এর পিন্ডলি কিছুটা পাতলা ছিল। তিনি যখন হাসতেন তখন মুচকি হাসতেন। তাঁর চক্ষুদ্বয় ছিল সুরমা বর্ণের। দেখে মনে হতো যে তিনি সুরমা ব্যবহার করেছেন। অথচ প্রকৃতপক্ষে তিনি তা ব্যবহার করেননি। (জামে তিরমিযী সারাহ সহ ৪র্থ খন্ড ৩০৬ পৃঃ।)

আনাস (রাঃ) বলেছেন, ‘রাসূলুল্লাহ (সা:)-এর হাতের তুলনায় অধিক কোমল এবং মোলায়েম রেশম কিংবা মলমল আমি স্পর্শ করি নি। অধিকন্তু, রাসূলুল্লাহ (সা:)-এর দেহ মুবারক নিঃসৃত সুগন্ধির তুলনায় অধিক সুগন্ধিযুক্ত কোন আতর কিংবা মেশক আম্বরের সুগন্ধি আমি গ্রহণ করি নি। (সহীহুল বুখারী ১ম খন্ড ৫০৩ পৃঃ, সহীহুল মুসলিম ২য় খন্ড ২৫৭ পৃঃ।)

আবূ যুহায়ফা (রাঃ) বলেছেন, ‘রাসূলে কারীম (সা:)-এর হাত মুবারক আমার মুখমণ্ডলের উপর স্থাপন করায় আমি তা বরফের ন্যায় শীতল এবং মেশক আম্বর হতে অধিক সুগন্ধিযুক্ত অনুভব করলাম। (সহীহুল মুসলিম ২য় খন্ড ২৫৬ পৃঃ।)

জাবির (রাঃ) বলেছেন, ‘রাসূলুল্লাহ (সা:) যখন কোন পথ ধরে চলতেন এবং তার পর অন্য কেউ সে পথ ধরে চললে, তাঁরা (নাবী (সা:) এর) দেহ নিঃসৃত সুগন্ধি থেকে বুঝতে পারতেন যে, নাবী কারীম (সা:) এ পথে গমন করেছেন। (দারমী, মিশকাত, ২য় খন্ড ৫১৭ পৃঃ।)

রাসূলুল্লাহ (সা:)-এর দু’ কাঁধের মধ্যবর্তী স্থানে ছিল ‘মোহর নবুওয়াত’। আকার আকৃতি ছিল কবুতরের ডিমের ন্যায় এবং তা ছিল পবিত্র গাত্রবর্ণের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। এ মোহরের অবস্থিতি ছিল বাম কাঁধের নরম হাড়ের নিকট। এ মোহরের উপর ছিল সবুজ রেখার ন্যায় তিলের সমাহার। (সহীহুল বুখারী ২য় খন্ড ২৫৯ ও ২৬০ পৃঃ।)

আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) তোমাদের মতো দ্রুত কথা বলতেন না। তিনি এমনভাবে কথা বলতেন যে, কেউ তা (শব্দ সংখ্যা) গণনা করতে চাইলে সহজেই গণনা করতে পারত (বোখারি ও মুসলিম থেকে মিশকাতে)। 

আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) এর মুখ দিয়ে কখনো অশ্লীল কথা, অভিশাপ বাক্য ও গালির শব্দ বের হয়নি। অসন্তোষের সময় তিনি বলতেন, তার কী হয়েছে, তার চেহারা ধূলিমলিন হোক (বোখারি থেকে মিশকাতে)। 

আবদুল্লাহ ইবনুল হারিস (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর চাইতে অধিক মুচকি হাসিদাতা আর কাউকে দেখিনি (তিরমিজি থেকে মিশকাতে)।

হাফিজুল হাদীস ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতী(রহঃ)বর্ণনা করেন,হযরত হাকীম তিরমীযি (রহ:)” নাওয়াদিরুল উছুল” নামক কিতাবে জাকওয়ান থেকে বর্ননা করেন,নিশ্চয়ই সূর্য ও চাঁদের আলোতেও রাসূলে পাক (সা:) উঁনার ছায়া মুবারক দেখা যেত না।”(খাছায়েছুল কুবরা,১ম খন্ড,১২২ পৃষ্ঠা)

ইমাম যুরকানী (রহ:) বলেন,“সূর্য চন্দ্রের আলোতে নবী করীম (সা:) এঁর দেহ মোবারকের ছায়া পড়তোনা।কেননা,তিঁনি ছিলেন আপদমস্তক নূর”। [যুরকানী শরীফ ৪র্থ খন্ড, পৃষ্ঠা ২২০]

ইমামুল জলীল, সাইয়্যিদুল মুফাসসীরিন, আল্লামা মাহমূদ নাসাফী (রহ:) বলেন, আমীরুল মু’মিনিন,হযরত উসমান (রা:) হুজুর পাক (সা:) উঁনাকে বলেছিলেন, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক আঁপনার ছায়া মুবারক মাটিতে পড়তে দেন নাই। যাতে মানুষ আঁপনার ঐ ছায়া মুবারকে পা রাখতে না পারে।”[তাফসীরে মাদারিকুত তানযীল-সূরা নূরের তাফসীর (তাফসীরে মাদারিক,পৃষ্ঠা-৩২১]

ইবনুল কাইয়িম (রহ.) বলেন, ‘যেহেতু সৌন্দর্য অন্তর আকৃষ্টের কারণ এবং মর্যাদা দানের কারণ হয়, এজন্য আল্লাহ তাআলা প্রত্যেক নবীকেই সুন্দর আকৃতি, সুন্দর চেহারা, শ্রেষ্ঠ বংশ, উত্তম চরিত্র ও মায়াবী কণ্ঠস্বর দিয়ে প্রেরণ করেছেন।’

আবূ কতাদাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত।তিনি বলেন,রাসূলুল্লাহ (সা:) বলেছেনঃ যে আঁমাকে স্বপ্নে দেখেছে সে সত্যই দেখেছে। (বুখারী ও মুসলিম)

হযরত আবূ হুরায়রা (রা:) বলেন: রাসূল (সা:) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আঁমাকে স্বপ্নযোগে দেখল,সে যেন আঁমাকে বাস্তবেই দেখল।কারণ শয়তান আঁমার আকৃতি ধারণ করতে পারে না। (সহীহ বুখারী, হা/নং-৬৫৯২)

প্রাজ্ঞ আলেমরা নবীজি (সা.)-কে স্বপ্নে দেখার বিশেষ তিনটি আমল বর্ণনা করেছেন। তাহলো—ক. অন্তরে নবীজি (সা.)-এর প্রতি পূর্ণাঙ্গ বিশ্বাস ও ভালোবাসা, খ. সুন্নতের অনুসরণ, গ. বেশি বেশি দরুদ পাঠ করা। (ফাতাওয়ায়ে ফকীহুল মিল্লাত: ২/২৩৪)

আল্লাহ্‌ সবাইকে সপ্নে রাসূলুল্লাহ (সা:) এর সাক্ষাৎ লাভের সৌভাগ্য নসীব করুক। আমিন।

x
Read More
// // Leave a Comment

আপনি কি হারাম প্রাণীর চর্বি খাচ্ছেন? কীভাবে জানবেন? জেনে নিন।

 শূকরের মাংস ইউরোপ জুড়ে তাদের প্রোটিন বা আমিষ সরবরাহের অন্যতম একটা মাধ্যম। এক হিসেবে দেখা গেছে যে, একমাত্র ফ্রান্সেই প্রায় বিয়াল্লিশ হাজারেরও বেশী শূকরের খামার রয়েছে। ইংল্যন্ডরও আনাচে কানাচে রয়েছে শূকরের খামার। বাণিজ্যিকভাবে এইসব খামারগুলো পুরো ইংল্যন্ড জুড়েই শূকরের মাংস সরবরাহ করে আসছে।
Read More