Image from: Pixabay.
Sunday, October 26, 2025
আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তাআ'লার পরিচয়
Thursday, October 27, 2022
প্রত্যাবর্তন
হযরত আবদুর রহমান হানাফী (রহঃ) যখন আরব সফরে ছিলেন তখন ফরিদপুরের এক লোক জাহাজ যোগে হজ্জ্ব সম্পাদনের জন্য মক্কা শরীফ যান।
হজ্জ্বের পর উনার বাড়ি ফেরার তারিখ তিনি ভুলে গিয়ে নির্দিষ্ট তারিখে স্টীমার ঘাটে আসতে পারেননি। ফলে জাহাজ ছেড়ে চলে যায়। পরে হঠাৎ মনে পড়ায় লোকটি জিদ্দা গিয়ে এরপর আবার মক্কা শরীফ ফিরে পাগলপারা হয়ে ঘুরতে থাকেন। তখন হারাম শরীফে একজন বাঙ্গালীর সাথে উনার সব ঘটনা খুলে বলেন। ঐ ব্যক্তি তাকে বলেন যে, মেছফালাহ-তে একজন বাঙ্গালী কামেল অলী আছেন, উনার নিকটে গিয়ে বলে দেখো- কোনো ব্যবস্থা হয় কিনা।
ঠিকানামত ফরিদপুরের লোকটি গিয়ে দেখেন সোনাকান্দার পীর আবদুর রহমান হানাফী (রহঃ) মোরাকাবায় বসে আছেন। দীর্ঘ সময় বসার পর তিনি চলে আসেন। এভাবে তিনদিন পীর সাহেবকে এ অবস্থায় পান এবং তৃতীয় দিন দীর্ঘসময় অপেক্ষা করার পর পীর সাহেব হুজরা থেকে বের হলে লোকটি প্রাণ খুলে সব কথা বলেন। হুজুর তাকে বললেন, তুমি এ বছর আমার সঙ্গে থাকো; থাকা ও খাবার পয়সা কিছুই লাগবে না। আগামী বছর হজ্জ্ব করে দেশে যাবার সব ব্যবস্থা ইনশাআল্লাহ্ আমি করে দেব। এতে লোকটি কিছুতেই রাজি হলো না বরং বাড়ি যাবার জন্যে কান্নাকাটি শুরু করে দিল; কেননা বাড়িতে ছোট-ছেলে মেয়ে, স্ত্রী ও মা রয়েছেন। তাঁদের দেখাশোনা ও লালন-পালনের আর কেউ নেই।
এরপর পীর আবদুর রহমান হানাফী (রহঃ) লোকটি কে বললেন, আমার রুমে মোমবাতি আছে, অন্ধকার ঘরে বসে আলাপ করতে কেমন লাগে; নাও, এ মোমবাতিটি জ্বালিয়ে নিয়ে এসো। আমার কাছে দিয়াশলাই নেই, লোকটি বললো, হুজুর আগুন কোথায় পাবো? পীর সাহেব হুজুর বললেন, দেখোতো, ঐ দূরে কে যেন একটি মোমবাতি জ্বালিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। লোকটি দেখে বললো, হ্যাঁ, তাইতো। তখন লোকটি হুজুরের হাত থেকে খালি মোমবাতিটি নিয়ে জ্বালানোর জন্যে দ্রুত ঐ মোমবাতিওয়ালার পিছনে দৌঁড়াতে লাগলো। কিন্তু যত দ্রুত দৌঁড়ায় কোন অবস্থায়ই বাতিটির কাছে পৌঁছাতে পারেনা।
এভাবে বাতিটির পিছনে পিছনে দ্রুত দৌঁড়াতে থাকে আর বাতিটিও পিছাতে থাকে; হঠাৎ ঐ ব্যক্তি দেখে সামনের বাতিটি নিভে গেছে। সেও বেঁহুশ হয়ে পড়ে যায়। এমন সময় ঐ হাজী সাহেবের মা চিৎকার করে বলতে থাকেন যে, তোমরা কে কোথায় আছো- জলদি এসো, আমার ছেলেতো মক্কা শরীফ হতে বাড়িতে চলে এসেছে। সবাই এসে আশ্চর্যান্বিত হয়ে ব্যাপার জিজ্ঞেস করলে লোকটি ঘটনাটি সবাইকে খুলে বলেন।
- সোনাকান্দার মাটি। (পৃষ্ঠাঃ ৮৪-৮৫) লেখকঃ মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান।
আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা উনার ওলীদের মতো আমাদেরকেও প্রিয়পাত্র করে নিন। আমীন।
***
Image Courtesy: https://pixabay.com/photos/way-sign-travel-landscape-nature-1767419/
Thursday, February 20, 2020
Sunday, January 26, 2020
পরীক্ষা
- তাযকেরাতুল আওলিয়া। (১ম খন্ড, পৃষ্ঠা ১৮৯)
Image by bess.hamiti@gmail.com from Pixabay ***
অবাক মৃত্যু
হুসায়েন বলিলেন, “যেদিন শূলের আগায় ঝুলিব, সেদিন আপনিও দরবেশের লেবাস ছাড়িয়া যাহেরী লোকের লেবাস পরিবেন। ”
যখন সমস্ত ধর্মবিদ-উলামা মানসূরকে কতল করার ফতোয়া দিলেন, তখন কেবল হযরত জুনায়েদ এই ফতোয়ায় দস্তখত করিলেন না, যেহেতু তিনি তখনও সূফীবেশে ছিলেন। খলীফা বলিলেন, “ফতোয়া সত্য হইলে হযরত জুনায়েদকে অবশ্যই দস্তখত করিতে হইবে। ” হযরত জুনায়েদ তখন খানকাহ্ হইতে উঠিয়া মাদরাসায় গেলেন এবং আলেমের লেবাস পড়িয়া ফতোয়ায় দস্তখত করিলেন। তিনি মন্তব্য লিখিলেন, “যাহেরী অবস্থামত মানসূর প্রাণদণ্ডের উপযুক্ত; আর, ফতোয়া যাহেরী অবস্থা অনুসারেই হইয়া থাকে। বাতেনী অবস্থা হক্ব তা’আলাই বিশেষরূপে জানেন। ”
কথিত আছে, তাঁহাকে যখন জেলখানায় বন্দী করা হইল- একরাত্রে জেলখানায় ৩০০ কয়েদী ছিল। তিনি সকল কয়েদীকে বলিলেন, “আমি তোমাদিগকে মুক্তি দিয়া দিব?” তাঁহারা বলিল, “কীরূপে? বাহ্! নিজেই বন্দী, আবার আমাদিগকে দিবেন মুক্তি! শক্তি থাকিলে আগে নিজকে মুক্ত করুন। ” তিনি বলিলেন, “আমি খোদার কয়েদী এবং শরীয়তের পায়রবি করি। অন্যথায়, ইচ্ছা করিলে তোমাদের সকল শিকল ছিঁড়িয়া ফেলিতে পারি। ” এই কথা বলিয়া তিনি আঙ্গুলে মাত্র ইশারা করিলেন, সঙ্গে সঙ্গে সকল কয়েদীর শিকল ছিঁড়িয়া গেল। তাহারা বলিল, “এখন আমরা বাহির হইব কীরূপে, জেলখানার দরজা যে বন্ধ?” আবার ইঙ্গিত করিলে জেলখানার দেওয়ালে কতকগুলি জানালা হইয়া গেল। তিনি বলিলেন, “হইল তো, যাও!” তাহারা বলিল, “আপনি আসিবেন না?” তিনি বলিলেন, “মালিকের সহিত আমার একটি গোপন ব্যাপার আছে, শূলে না চড়িয়া উহার সমাধান হইবে না। ”
পরদিন প্রহরী আসিয়া দেখিল, একটি কয়েদীও নাই। জিজ্ঞাসা করিল, “কয়েদীরা কোথায়?” তিনি উত্তরে বলিলেন, “আমি সকলকে মুক্তি দিয়া দিয়াছি। ” প্রহরী জিজ্ঞাসা করিল, “তবে আপনি কেন রহিয়া গেলেন?” তিনি বলিলেন, “আমার উপরে মালিকের ক্ষেদ আছে, সেইজন্যে অপেক্ষা করিতেছি। ” খলীফা এই সংবাদ পাইয়া বলিলেন, “যাও, যাইয়া শীঘ্র তাহাকে দোর্রা মারিয়া কতল করিয়া ফেল; এই গোলমাল মিটিয়া যাউক। অন্যথায়, ভীষণ গোলমাল ও ফাসাদের আশঙ্কা!” অতঃপর, তাঁহাকে বন্দীশালা হইতে বাহির করিয়া তিনশত দোর্রা মারা হইল। কিন্তু, ইহাতেও তিনি “আনাল হক্ব” উক্তি বন্ধ না করিয়া বরং উচ্চস্বরে ও দৃঢ়ভাবে আবৃত্তি করিতে রহিলেন। যে দোর্রা মারিতে ছিল- সে বলিল, আমি যখন মানসূরকে দোর্রা মারিতেছিলাম তখন প্রতিটি কশাঘাত হইতে স্পষ্ট আওয়ায শুনিতেছিলাম, “হে বৎস মানসূর! ভয় করিও না। ”
তারপর তাঁহাকে শূলে চড়াইবার জন্য লইয়া যাওয়া হইল। ইহা দেখিবার জন্য প্রায় এক লক্ষ লোক জমায়েত হইল। তিনি প্রত্যেকের দিকে লক্ষ্য করিয়া বলিতে লাগিলেন, “হক্ব, হক্ব, আনাল হক্ব। ” ইতোমধ্যে একজন ফকির আসিয়া তাঁহাকে জিজ্ঞাসা করিলেন, “প্রেম কী?” তিনি উত্তরে বলিলেন, “তাহা আজ দেখিবে, কল্য দেখিবে এবং পরশুও দেখিবে। ” অর্থাৎ, প্রথম তাঁহাকে বধ করা হইবে, দ্বিতীয় দিন তাঁহার দেহ পোড়ান হইবে, তৃতীয় দিন তাঁহার ছাই বাতাসে উড়াইয়া দেওয়া হইবে- এইসবের প্রতি ইঙ্গিত করিয়া বলিয়া গিয়াছেন যে, ইহাই প্রেম। শূলে চড়াকালে তাঁহার খাদেম আসিয়া তাঁহার নিকট উপদেশ চাহিলে তিনি বলিলেন, “নিজকে কোন সৎকাজে মশগুল রাখিও, তাহা না হইলে নফস তোমাকে কোন বদ কাজে রত করিয়া ফেলিবে। ” তাঁহার পুত্র আসিয়া বলিল, আব্বা, আমাকে কিছু অছিয়ত করুন। তিনি বলিলেন, “বাবা, অছিয়ত এই- দুনিয়ার সবাই নেক আমলের চেষ্টায় লাগিয়া আছে; তুমি এমন কাজের চেষ্টা কর- যাহার এক রতি সারা দুনিয়ার মানুষ ও জ্বীনের আমল হইতে শ্রেষ্ঠ হয়- উহা আর কিছুই নহে- এলমে হাকীকতের এক কণা। ”
ইহার পর তিনি খুশীর সহিত ধীরে ধীরে শূলের দিকে যান। লোকে জিজ্ঞাসা করিল, “এই সময় এমন খুশীর কারণ কী?” তিনি বলিলেন, “এখন আমি আপন আস্তানার দিকে যাইতেছি। ইহার চেয়ে আমার পক্ষে আর খুশীর সময় কবে হইবে?” তারপর শূলের দিকে জোর গলায় এই কবিতার অংশ দুইটি পাঠ করিতে করিতে অগ্রসর হইতেছিলেনঃ (বঙ্গানুবাদ)
(১) “আমার বন্ধু আমার প্রতি মোটেই অবিচার করেন নাই। মেহমানকে যেমন পবিত্র ও উত্তম শরাব পান করান হয়, তিনিও আমাকে সেইরূপ শরাবই (প্রেমের শরাব) পান করাইয়াছেন। ”
(২) “শরাবের পাত্র কয়েকবার ঘুরানোর অর্থাৎ কয়েকবার পান করার পর কোষ ও তরবারিসহ আগাইবার জন্য বন্ধু আমাকে সাদরে আহবান জানাইলেন। আর, ইহাই ঐ ব্যক্তির সমুচিত সাজা, যে গরমের দিনে অজগরের সঙ্গে বসিয়া পুরাতন শরাব পান করে। ”
পরে তাঁহাকে শূলের নিকট আনা হইলে তিনি শূলের সিঁড়ি চুম্বন করিলেন এবং পরে শূলের সিঁড়িতে পা রাখিয়া বলিলেন, “বীরপুরুষের মে’রাজ শূল দন্ড। ” এই সময় কেবলার দিকে মুখ করিয়া হাত উঠাইয়া মোনাজাত করিলেন এবং বলিলেন, “যাহা চাহিয়াছিলাম, তাহা পাইয়াছি। ” যখন তিনি শূলে চড়িলেন, তখন তাঁহার মুরিদগণ জিজ্ঞাসা করিল, “হুজুর, যাহারা আপনার সহিত এরূপ নিষ্ঠুর ব্যবহার করিল, তাহাদের সম্বন্ধে এবং আমরা ও অন্যান্য যাহারা আপনার সমর্থন করি, তাহাদের সম্বন্ধে আপনার অভিমত কী?” উত্তরে বলিলেন, “যাহারা আমার সহিত নিষ্ঠুর ব্যবহার করিল, তাহাদের দ্বিগুণ সওয়াব (পূণ্য) হইবে; আর, যাহারা আমার সমর্থন করিতেছ, তাহাদের জন্য এক সওয়াব; কেননা, তোমরা কেবল আমার সম্বন্ধে ভাল ধারণাই পোষণ কর; আর তাহারা তাওহীদের শক্তি এবং শরীয়তের কঠোর বিধান- এই দু’য়ের তাড়নায় জর্জরিত হইতেছে। আর, ইসলাম ধর্মে তাওহীদ আসল; সুধারণা তাহার শাখা মাত্র। ”
কথিত আছে, মানসূর যৌবনকালে কোন স্ত্রীলোকের প্রতি নযর করিয়াছিলেন। শূলে চড়িবার পর সেই কথা স্মরণ করিয়া বলিলেন, “হায়, কী অশুভ কীর্তি আমার ঘটিয়াছিল; দীর্ঘদিন পর যাহার প্রতিশোধ আমা হইতে লওয়া হইতেছে। ”
তারপর, হযরত শিবলী (রহঃ) তাঁহার নিকট আসিয়া উচ্চস্বরে বলিলেন, “হে হাল্লাজ, তাছাউওফ বা ফকিরি কী?” উত্তরে বলিলেন, “যাহা তুমি দেখিতেছ, ইহা তাছাউওফের নিম্ন শ্রেণি মাত্র। ” হযরত শিবলী বলিলেন, তবে উচ্চ শ্রেণী কোনটি? তিনি বলিলেন, “সেই পর্যন্ত তুমি পৌঁছিতে পার নাই। ” ইহার পর লোকেরা তাঁহার প্রতি পাথর ছুঁড়িতে আরম্ভ করিল। হযরত শিবলী অন্যের দেখাদেখি মাত্র একটি মাটির ঢিল ছুঁড়িলেন- তখনই মানসূর একটি হৃদয় বিদারক “আহ্” বলিয়া চিৎকার করিয়া উঠিলেন। লোকে জিজ্ঞাসা করিল, এত লোকে আপনার উপর পাথর ছুঁড়িতেছে; তাহাতে কোন দুঃখ প্রকাশ করিলেন না- আর, এ সামান্য মাটির ঢিলে কেন এরূপ চিৎকার করিয়া উঠিলেন?” মানসূর বলিলেন, “তাহারা অজ্ঞান বলিয়া পাথর মারিতেছে, সুতরাং ইহাতে দুঃখ নাই; পক্ষান্তরে, হযরত শিবলী (রহঃ) আমার সম্বন্ধে বেশ জানেন, তাঁহার ঢিল ছুঁড়া সাজে না; তাঁহার সামান্য ঢিলেও মনে ভীষণ আঘাত লাগে। ”
ইহার পর শূলে প্রথমে তাঁহার হাত কাটা হইল (হাতের কবজা পর্যন্ত)। ইহাতে তিনি বলিলেন, “এই যাহেরী মানুষটির হাত কাটা সহজ বটে; কিন্তু, আমার বাতেনী হাত যাহা আরশের উপর হইতে গৌরবের তাজ টানিতেছে, তাহা কাটিবার কে আছে?” তারপর তাঁহার পা কাটিয়া হইল। তিনি হাসিমুখে বলিলেন, “যদিও এই যাহেরী পায়ের সাহায্যে দুনিয়ায় চলাফেরা করিয়াছি; কিন্তু আমার অপর পা আছে, যাহার সাহায্যে আমি বেহেশতে চলাফেরা করিতে পারিব। যদি শক্তি থাকে তবে উহা কাটিয়া ফেল দেখি?” এই বলিয়া শরীরে খুন হাতে লইয়া মুখে মাখিতে লাগিলেন। লোকে জিজ্ঞাসা করিল, “এরূপ করিতেছেন কেন?” তিনি বলিলেন, “আমার শরীর হইতে অনেক খুন বাহির হওয়ায় মুখ সাদা হইয়া গিয়াছে। ইহাতে হয়তো তোমরা মনে করিবে, ভয়ে এরূপ সাদা হইয়াছে। এজন্য খুন মুখে মাখিলাম, যেন লোকের নযরে আমার মুখ লাল দেখায়; কেননা, বীর পুরুষের মুখের রক্তিম রঙ তাহার খুনের সাহায্যেই হয়। ” লোকে জিজ্ঞাসা করিল, “হাতে রক্ত মাখিতেছেন কেন?” তিনি বলিলেন, “ওযু করিতেছি। ” লোকে বলিল, “ এ কীরূপ ওযু?” তিনি বলিলেন, “দুই রাক’আত এশকের নামায আছে, যাহা খুন দ্বারা ওযু ছাড়া শুদ্ধ হয় না। ” তারপর, তাঁহার চোখ দুইটি উঠাইয়া ফেলা হইল। ইহা দেখিয়া জনসাধারণের মধ্যে কান্নার রোল উঠিল। কেহ কাঁদিল, কেহবা তখনও পাথর নিক্ষেপ করিতে লাগিল। তারপর তাঁহার জিহবা কাটিতে চাহিলে তিনি বলিলেন, “একটু ধৈর্য ধর। আমি কিছু কথা বলিব। ” তিনি উপরের দিকে চাহিয়া বলিলেন, “এলাহী, ইহারা আমাকে যে তোমার জন্য এত দুঃখ দিল, ইহাদিগকে তোমার রহমত হইতে বঞ্চিত করিও না; সেই সম্পদ হইতে তাহাদিগকে নিরাশ করিও না। আলহামদুলিল্লাহ্
“আমি তাওহীদের আশেক। তাওহীদের মহব্বত হইল এক কে একক জানা এবং অন্য কাহাকেও সেখানে স্থান না দেওয়া। ” ইহার পর এই আয়াত শরীফ পাঠ করিলেনঃ (বঙ্গানুবাদ) “যাহারা ঈমান আনয়ন করেনা ও কেয়ামতকে অবিশ্বাস করিয়া উহাকে পৃষ্ঠ প্রদর্শন করে; অথচ, অন্তরে জানে যে, উহা নির্ঘাত সত্য- তাহারাই হাস্য করিয়া নবী (সাঃ) কে শীঘ্র কেয়ামত আনিয়া দেখাইতে বলে। পক্ষান্তরে, যাহারা ঈমান আনিয়া ঐ (ভয়ঙ্কর দিনের নাম শুনিলে) ভয়ে ভীত হয় ও কুকর্ম হইতে বিরত থাকে, তাহারাই কেয়ামতকে সত্য বলিয়া জানে ও প্রাণে বিশ্বাস করে। ”
ইহাই তাঁহার সর্বশেষ বাণী ছিল। তারপর তাঁহার জিহবা কাটা হইল। দিন শেষ হইল। সন্ধ্যা হইল। খলীফার হুকুম জারী হইল, “শরীর হইতে তাঁহার মাথা ছিন্ন করিয়া ফেল। ” হুকুমমত মাথা কাটিবার সময় তিনি উচ্চস্বরে হাস্য করিতে লাগিলেন। ঐদিকে লোকদের মধ্যে কান্নার রোল উঠিল। দেখিতে দেখিতে তাঁহার জীবন শেষ হইল বটে; কিন্তু, তাঁহার প্রত্যেক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ হইতে “আনাল হক্ব” আওয়ায হইতে লাগিল। তারপর, প্রত্যেক অঙ্গকে খন্ড-বিখন্ড করা হইল। কেবল গলা ও পিঠ বাকী রহিল। তখন প্রত্যেক টুকরা হইতে “আনাল হক্ব” আওয়ায উঠিতে লাগিল। তাঁহাকে কতল করার সময় যে রক্তবিন্দুটি মাটিতে পড়িত, উহাও “আনাল হক্ব” এর আকৃতি ধারণ করিত! দ্বিতীয় দিন এ অবস্থা দেখিয়া লোকে অবাক হইয়া বলিতে লাগিল, “আগে এক মুখে “আনাল হক্ব” বলিত; আর এখন শতমুখে উচ্চারিত হইতেছে। ” এই বিপদ দেখিয়া হতবুদ্ধি হইয়া মালিকপক্ষ মানসূরের সমস্ত শরীর আগুনে পুড়াইয়া ফেলিল। কিন্তু, ইহাতে বিপদ আরও বৃদ্ধি পাইল। প্রত্যেক ছাইয়ের রেণু হইতে “আনাল হক্ব” আওয়ায উঠিয়া শহর, মাঠ-ঘাট মুখরিত করিয়া তুলিল। অবশেষে উপায় না দেখিয়া খলীফা ছাইগুলি দিজলা নদীতে ফেলিয়া দিবার হুকুম করিলেন। কিন্তু আশ্চর্য! ছাই ফেলার পর নদীর পানিতে ঢেউয়ের পর ঢেউ প্রবল হইতে প্রবলতর আকার ধারণ করিতে লাগিল এবং প্রত্যেকটি ঢেউয়ের সহিত উচ্চ রব উঠিতে লাগিল “আনাল হক্ব, আনাল হক্ব। ” নদীতে তুফান আর ঢেউয়ের ভীষণ আকার দেখিয়া লোকজনের প্রাণে আতঙ্কের সৃষ্টি হইল। কতলের পূর্বেই মানসূর নিজের একজন চাকরকে বলিয়াছেন, আমার দেহের পোড়া ছাইগুলি যখন নদীতে ফেলিয়া দেওয়া হইবে, তখন বাগদাদ নগরে কেয়ামতের মত অবস্থার সৃষ্টি হইবে। নগর রক্ষার কোন উপায় না দেখিলে আমার খেরকাটি নিয়া দিজলা নদীকে দেখাইও; ইহাতেই নদী শান্ত হইবে। ” চাকর নদীর ভয়াবহ অবস্থা দেখিয়া তাহাই করিল। আগুনের মধ্যে পানি ফেলিলে যেমন মুহূর্তের মধ্যে উহা নিভিয়া যায়, সেইরূপ খেরকা দেখার সঙ্গে সঙ্গে নদী শান্তভাব ধারণ করিল এবং নিক্ষিপ্ত ছাইগুলি আসিয়া নদীর কিনারায় জড় হইল- সেই ছাই কুড়াইয়া আনিয়া দাফন করা হয়। সত্যিই, কোন তাপসই উক্ত পথে তাঁহার ন্যায় জয়ী হইতে পারেন নাই। ”
-তাযকেরাতুল আওলিয়া। (দ্বিতীয় খন্ড, পৃষ্ঠা ২২৬- ২৩৫)
Image by Myléne from Pixabay ***
Thursday, January 9, 2020
Friday, August 2, 2019
অত্যাচারী এক বাদশাহের গল্প
গান-বাদ্যের কুফল
যে কাজ করলে শাস্তি ভোগ করতে হয়, তাই হারাম (নিষিদ্ধ)।
লাহ্ওয়াল হাদীছের মর্মে তাফসীরে ইবনে জারীর তাবারীর ২য় খন্ড ৩১ পৃষ্ঠায় আছে- সায়ীদ বিন জোবায়ের, আবুছ্ ছাহবা বাকরী হতে রেওয়ায়েত করেছেন, তিনি হযরত আবদুল্লাহ্ বিন মাছউদ (রাঃ) কে এই আয়াত সম্বন্ধে জিজ্ঞাসিত হতে শুনেছিলেন। ইহাতে তিনি বলেছিলেন, "আল্লাহ্ ব্যতীত কোন মা'বুদ নেই, উনার কসম করে বলছি, লাহ্ওয়াল হাদীছ রাগ-রাগিনীসহ গানকে বলা হয়। তিনি পুনঃ পুনঃ এই কথাটি বলেছিলেন।
তাফসীরে রুহুল মা'আনী ৯ খন্ডে বিভক্ত। এর ৬ষ্ঠ খন্ডের ৪৬৩ পৃষ্ঠায় লিখা আছে, লাহ্ওয়াল হাদীছের অর্থ- গান।
সূরা নজমের শেষ আয়াত "ওয়া আনতুম সা-মিদুন। "
তাফসীরে বায়জাবী শরীফে আছে- "সা-মিদুন" শব্দের অর্থ সঙ্গীতকারীগণ।
সূরা বনী ইসরাঈলে আছে, আল্লাহ্ তা'আলা শয়তানকে লক্ষ্য করে বলেছিলেন, তুমি আদম সন্তানগণের মধ্যে যাকে পারো নিজের শব্দ দ্বারা উত্তেজিত করো।
শয়তানের শব্দই গান-বাদ্য। কাজেই উহা হারাম।
তাফসীরে দুররুল মানছুরের ৫ম খন্ড ১৫৯, ১৬০ পৃষ্ঠায় আছে, লাহ্ওয়াল হাদীছের অর্থ- গান-বাদ্য।
তাহ্তাবী কিতাবের ৪র্থ খন্ড ১৭৩ পৃষ্ঠা কাহাস্তানিতে লিখা আছে,
ইবলীছ সর্বপ্রথম গানের সৃষ্টি করেছে এবং সামেরীর শাগরিদগণ সর্বপ্রথম লাফালাফি, নাচানাচি, জমিতে লুন্ঠন-প্রথা আরম্ভ করেছিল।
যখন হযরত মুসা (আঃ) তূর পাহাড়ে ছিলেন, তখন হারুন (আঃ) সামেরীকে নিষেধ করা সত্ত্বেও সামেরী- নিজের শাগরিদদিগের জন্য রক্ত-মাংসময় গরুর বাচ্চার মূর্তি সৃষ্টি করেছিল এবং সেই সময় তারা লাফালাফি করে জমিতে উলট-পালট হয়ে পড়ে গরুর পূজা করেছিল। ইহা কাফের ও গো-পূজকদের ধর্ম। বিধর্মীগণ মুসলমানদিগকে পবিত্র কোরআন শরীফ পাঠ হতে বিরত রাখার উদ্দেশ্যে বংশী-বাদ্য তৈরি করেছিল। জালাল উদ্দিন গিলানী (রহঃ) বলেছেন, এই সমস্ত হারাম। হালাল জানলে কাফের হবে।
তাফসীরে রুহুল মা’আনীর ৬ষ্ঠ খন্ড, ৪৬৩, ৪৬৪ পৃষ্ঠায় আছে, হযরত হাসান বসরী (রহঃ) হতে বর্ণিত, গল্প-গুজব, ঠাট্টা-বিদ্রূপজ
তাফসীরে রুহুল মা’আনী ৩য় খন্ড ৪৪, ৪৫ পৃষ্ঠায় আছে,
সেতারা,দোতারা, একতারা, বেহালা ইত্যাদি গানের বাদ্যযন্ত্রসমূহ
...
ইমাম আহমদ (রহঃ) বর্ণনা করেছেন, প্রিয়নবী (সাঃ) বলেছেন, "নিশ্চয়ই খোদাতা'আলা আমাকে পৃথিবীর রহমত ও পথ-প্রদর্শক করে পাঠিয়েছেন এবং বংশী, সারেঙ্গী ও সমস্ত বাদ্য-যন্ত্রসমূ
ইমাম তিবরানী ও ইবনে আবিদ্ দুন্ইয়া এই হাদিছটি বর্ণনা করেছেন যে, ইবলিছ জমিতে পড়ে বলেছিল, হে খোদা! তুমি আমাকে জমিনে নিক্ষেপ করেছো এবং স্বীয় দরবার হতে তাড়িয়ে দিয়েছো- এখন আমাকে একটি ঘর তৈরি করে দাও। খোদাতা'আলা বললেন, উহা স্নানাগার।
একটি সভা ঠিক করে দাও; খোদাতা'আলা বললেন, উহা বাজারসকল ও রাস্তার সম্মিলন স্থল।
আমার জন্য খাদ্য নির্দেশ করে দাও; খোদাতা'আলা বললেন, যে বস্তুর উপর খোদার নাম পাঠ করা না হয়, সেটাই তোমার খাদ্য।
আমার জন্য পানীয় ঠিক করে দাও; খোদাতা'আলা বললেন, প্রত্যেক নিশাযুক্ত বস্তুই তোমার জন্য পানীয়, যথা- গাঁজা, ভাং, চরস, তাড়ি ও মদ ইত্যাদি।
...
বাহরুর রায়েক ৭ম খন্ড, ৮৮ পৃষ্ঠায় আছে,
যে গানে আমোদ-প্রমোদ আছে; অথবা, কুরিপুগুলিকে উত্তেজিত করে তোলে, তা বাদ্য- যন্ত্রবিহীন হলেও হারাম (নিষিদ্ধ)।
...
তফসীরে আহমদি ৬০০ পৃষ্ঠায় আছে,
যে ব্যক্তি গান করতে উচ্চশব্দ করে, খোদাতা'আলা তার উপর দুইটি শয়তান পাঠিয়ে দেন; সে যতক্ষণ গান করতে থাকে, শয়তান দুইটি তার দুই কাঁধে বসে ততক্ষণ পদাঘাত করতে থাকে।
...
ইমাম আবু জাফর তাবারী বলেছেন, কাবিল বংশের কুফল নামক এক ব্যক্তি নানারূপ খেলা-তামাশাজনক বস্তুসমূহ তৈরি করেছিল, সে সময় মোহলাইল বিন কিবান নামক ব্যক্তি বাদ্যযন্ত্রের মধ্যে বংশী, ঢোল এবং উদ্ তৈরি করেছিল। এতেই কাবিলের বংশধর খেলা-তামাশায় লিপ্ত হয়ে পড়ে। তারপর, শীশ (আঃ) এর বংশধরগণ (যাদের মধ্যে কিছু বদকার বা খারাপ ছিল) সংবাদ পেয়ে তাদের একদল উক্ত দলের সঙ্গে মিলিত হয় এবং জিনা ও মদ্যপান আরম্ভ করে।
হাদীছ শরীফে আছে, গান-বাদ্য জিনার মন্ত্র।
...
আবুল হারেছ আওলাছী (রহঃ) বলেছেন, আমি স্বপ্নযোগে দেখছিলাম, একটি ছাদের উপর ডানে ও বামে দুইদল সৈন্য নিয়ে শয়তান বসেছে। সে একদলকে বলল, তোমরা দাঁড়িয়ে গান করো। তখন তারা দাঁড়িয়ে গান করতে লাগলো। তারপর বলল, নাচ আরম্ভ করো, তখন নৃত্য করতে লাগলো। তখন শয়তান বলল, হে আবুল হারেছ! আমি গান-বাদ্য ও নাচ ব্যতীত তোমাদের নিকট উপস্থিত হতে পারি না।
...
কোরআন শরীফ সূরা ফোরকানে আছে- "তারা (পরহেজগার লোকেরা) বাতিলের অর্থাৎ, খেলা-তামাশা ও গানের সভায় উপস্থিত হন না। "
তাফসীরে কাশশাফের ২য় খন্ড ৩৩৪ পৃষ্ঠায় আছে, পরহেজগারেরা শিরক, মিথ্যালোচনা স্থলে, প্রতিমালয়ে, গান-বাদ্যস্থলে,
কোরআন শরীফ সূরা মো'মেনে আছে, "আমি তোমাদেরকে অনর্থক সৃষ্টি করেছি বলে কি তোমরা ধারণা করছো?"
উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় তাফসীরে বায়জাবী শরীফের ৪র্থ খন্ড ৭২ পৃষ্ঠায় আছে, - তোমাদিগকে নানারূপ খেলা-তামাশার জন্য সৃষ্টি করিনি।
...
হযরত সালমান (রাঃ) হইতে বর্ণিত পবিত্র হাদীছ শরীফ- "কেয়ামত নিকটবর্তী হওয়ার লক্ষণসমূহের মধ্যে দুইটি এই যে, লোকে কোরআন শরীফকে রাগ-রাগিনীর সাথে পাঠ করবে এবং গান-গায়কের দল বেড়ে যাবে।
- আনিছূত্তালেবীন।
…
মাটির মধ্যে পানি পতিত হলে যেমনিভাবে ঘাস জন্মায়, গান শুনলে অন্তরে তেমনি করে মোনাফেকি (কপটতা বা ভন্ডামী) সৃষ্টি হয়।
...
মহান আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা আমাদের সবাইকে গান-বাদ্যসহ সকল ফেতনা-ফাছাদ থেকে রক্ষা করুন। আমীন।।
***
Image by Erich Westendarp from Pixabay
Friday, May 3, 2019
Monday, December 17, 2018
ঋণ
বর্ণিত আছে, হযরত মোহাম্মদ ইবনে আসলাম তূসী (রহঃ) অনেক সময় টাকা কর্জ করিয়া ফকির-দরবেশদিগকেThursday, June 14, 2018
স্বীকারোক্তি
তিনি সেই লোকটিকে জিজ্ঞাসা করলেন, “রুটি কে নিয়েছে?”
লোকটি বললো, “আমি জানিনা। ”
তিনি লোকটিকে নিয়ে আবার রওয়ানা হলেন। রাস্তা চলতে চলতে যখন ক্ষুধার উদ্রেক হলো তখন তিনি দূরে একটি হরিণী দেখতে পেলেন।


















